স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ  চলার স্বাধীনতায় সাইক্লিং  সেনা প্রত্যাহার নিয়ে ট্রাম্পের বিলম্বিত বোধোদয়!  অতিবৃষ্টিতে মাথায় হাত শরীয়তপুরের আলু চাষিদের  এমপি বাসন্তীকে নিয়ে উত্তপ্ত রামগড়!  স্ত্রীকে পিটিয়ে পিটুনি খেলেন হিরো আলম !  নৌকার প্রার্থীর গাড়িতে অস্ত্র, চালকের জেল  শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা হবে সফল মন্ত্রিসভা : ইঞ্জি. মোশাররফ  মিরসরাইয়ে মোশাররফের প্রচারনায় দাপুটে আওয়ামীলীগ : অন্ত:কোন্দলে ধরাশায়ী বিএনপি  মিরসরাই প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা : যোগ দিলেন ৬ সাংবাদিক


লিডনিউজ | logo

৯ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৩শে মার্চ, ২০১৯ ইং

গল্প : রাজনীতির গোমর ফাঁস

গল্প : রাজনীতির গোমর ফাঁস

সেলিম ইসলাম খান (গল্প ) : এক ব্যাংক ডাকাতের ফাঁসি হবে। জেল কর্তৃপক্ষ তার শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চাইলো। ব্যাংক ডাকাত বললো, এই জীবনে বড় শখ ছিলো, দেশের রাষ্ট্রপতিকে সামনাসামনি দেখার। আমি ওনার থেকে জীবনভিক্ষা চাই না, শুধু চাই, ওনাকে একবার দেখতে।

রাষ্ট্রপতি অনুরোধ রাখলেন। ডাকাত রাষ্ট্রপতির দেখা পেলে ডাকাত তাঁকে জানালো, “হুজুর আমার তো ফাঁসি হয়ে যাচ্ছে। আমার কাছে একটা গাছের চারা ছিলো, যেটা রোপণ করলে অমর হওয়া যায়, চারাটা আপনাকে দিয়ে যেতে চাই”।


রাষ্ট্রপতি অনেক খুশি। বললেন ঠিক আছে, আমি কালকেই মন্ত্রীপরিষদের সবাইকে ডাকছি। আমি তাদের সামনেই এই চারা রোপণ করবো। পরের দিন, মন্ত্রি পরিষদ হাজির। ডাকাত গাছের চারা নিয়েও হাজির। মাটি খুড়া হলো।


ডাকাত বললো, হুজুর একটা কথা ছিলো। মানে গাছটা যদি কোন অপবিত্র মানুষ রোপণ করে, তবে সে সাথে সাথেই মারা যাবে, আর যদি পবিত্র হাতে রোপণ করে তবে সে অমর হবে।


একথা শুনে রাষ্ট্রপতি ভিমড়ি খেলেন, তবে সামলে নিলেন নিজেকে। তিনি বললেন, “তাহলে মন্ত্রি পরিষদ থেকেই কেউ এই চারা রোপণ করুক, আমার মনে হচ্ছে, খাদ্যমন্ত্রী এটা রোপন করলে ভাল হয়।


খাদ্যমন্ত্রী বললেন, না, না তা কি করে হয়। ব্রাজিলের পচা গম কান্ডের পর কত কিছুইতো আনলাম, সবই আমার ব্যবসায়ীরা পেল।আমার মনে হয় শিক্ষামন্ত্রী আপনি গাছটা রোপণ করতে পারেন”।


শিক্ষামন্ত্রী আসন্ন নিশ্চিত মৃত্যুর কথা ভাবতেই শিউরে উঠলো। সে বললো, “মাননীয় রাষ্ট্রপতি, দেখুন সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঠান্ডারাখাসহ সবাইকে পাশ করাতে গিয়ে আমার একটু এদিক সেদিক করতে হয়েছে, আমার মনে হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই চারা রোপণের উপযুক্ত মানুষ, চারা সেই রোপণ করুক”।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এবার সামলে নিয়ে বললো, “দেখুন চোর ডাকাত সন্ত্রাসী সামলাতে সামলাতে আবার দলীয় ক্যাডারদের দলের কাজে রাখতে আমাকে অনেক এদিক সেদিক করতে হয়, আমার মনে হয়, যেহেতু অর্থমন্ত্রীর সরাসরি নাগরিকদের সাথে কাজ নেই, ওনার হাতই পবিত্র! “


অর্থমন্ত্রী সামলে নিয়ে বললেন, “দেখুন, আপনাদের প্রতিটা কাজেই দুইগুণ তিনগুণ বাজেট আমাকেই অনুমোদন করতে হয়। শেয়ার বাজার, এমএলএম আর ব্যংকগুলোর যা অবস্থা করেছি-রাবিশ! রাবিশ! এক্কারে রাবিশ! আমার মনে হয় একের পর এক সব মন্ত্রীকে প্রস্তাব না দিয়ে ধর্মমন্ত্রীকে এই কাজটি করতে দিলেই ভালো। ওনার হাত পবিত্র!”


রাষ্ট্রপতির এই প্রস্তাব পছন্দ হলো। তিনি ধর্মমন্ত্রীকেই সেই চারা গাছটি রোপণের নির্দেশ দিলেন!


ধর্মমন্ত্রী আমতা আমতা করতে করতে বললেন, “মাননীয় রাষ্ট্রপতি, দেখুন প্রতিবছর হজ্জের সময়েই এক দেড় হাজার কোটি টাকা এদিক সেদিক হয়, এছাড়া লাইসেন্স বাবদ আরও হাজার কোটি টাকা!দাদাদের খুশি করতে মসজিদ-মক্তবের টাকা মন্দির-প্যাগোডায় ঢেলেছি, আল্লাহ কি আমাকে ছাড়বে ভেবেছেন্! আমাকে এই গাছের চারা রোপণ করা থেকে রেহাই দিন হুজুর”!


এবার রাষ্ট্রপতি ডাকাতকে বললেন, “আচ্ছা তুমিই গাছের চারাটি রোপণ করো”।


ডাকাত বললো, “হুজুর আমিতো ইতোমধ্যেই ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত, এই গাছ আমার রোপণ করা কি ঠিক হবে?”
রাষ্ট্রপতি এইবার ডাকাতকে বললে, “যাও তোমার ফাঁসির দণ্ড মাফ, তুমি আমার চোখ খুলে দিয়েছো, এখন মুক্ত হয়ে বাড়ি চলে যাও!”


এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, “মাননীয় রাষ্ট্রপতি, আপনি ক্ষমা করে দিয়েছেন, আর বলার কিছুই নাই। কিন্তু ও তো আমাদের সব খবর জেনে গেলো। ওকে তো মুক্তভাব ছাড়া ঠিক হবে না, বরং ক্রশফায়ার করে দেই!”


অর্থমন্ত্রী বললেন, “আমার মনে হয়, এই ডাকাতকে মন্ত্রী করে নিলেই ভালো! সব দিকই তাতে ঠিক হবে”!


শিক্ষামন্ত্রী বললেন, “না, না, ওর শিক্ষাগত যোগ্যতা কম, ওকে মন্ত্রী করা ঠিক হবে না!”


রাষ্ট্রপতি বললেন, “এর যেই বুদ্ধি আর কূটকৌশল – কীভাবে তোমাদের অপকর্মগুলো আমার সামনে স্বীকার করিয়ে নিলো! ওকেই আমার দরকার, আজ থেকে তাকে বিদেশমন্ত্রী হিসাবেই নিয়োগ দেয়া হোক। তাহলে ওকে দিয়ে শক্তিশালী দেশগুলোকে খুশি রাখব, জাতিসংঘ-পাতিসংঘ খুশি রেখে নামকাওয়াস্তে নির্বাচন দিয়ে বারবার ক্ষমতায় আসব। কেল্লাফতে!


লিডনিউজ | logo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    

সম্পাদক ও প্রকাশক:
ঠিকানা:
মুঠোফোন: ,ইমেইল:

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ঢাকা অফিস: ১৯২ ফকিরাপুল, (৩য় তলা),
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।

rss goolge-plus twitter facebook
DEVELOPMENT: