ছৈয়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদ পূনর্মিলনী  করেরহাট আ.লীগে কামরুলের নেতৃত্ব চায় তৃনমূল নেতা-কর্মীরা  মিরসরাই আওয়ামীলীগের কাউন্সিল : সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ  মিরসরাইয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির হামলায় বৃদ্ধা নিহত  ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে মিরসরাইয়ের তামান্না  মিরসরাইয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ড্রেন দখল চেষ্টার অভিযোগ  নামী দামি ব্রান্ডের ৫২ পণ্য বিক্রি বন্ধে আদালতের নির্দেশ  সমুদ্রের ৩৮ কি.মি গভীরে জিপির নেটওয়ার্ক মিললেও মেলে না ঘরে ভেতর  তিউনিসিয়ায় নৌকা ডুবে মৃত ৬০ জনের অধিকাংশ বাংলাদেশি  মিরসরাই আ’লীগের কাউন্সিল : আলোচনায় অর্ধ ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী


লিডনিউজ | logo

১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

করেরহাট আ.লীগে কামরুলের নেতৃত্ব চায় তৃনমূল নেতা-কর্মীরা

করেরহাট আ.লীগে কামরুলের নেতৃত্ব চায় তৃনমূল নেতা-কর্মীরা

মো. রিগান উদ্দিন : মিরসরাই উপজেলা আ.লীগের কাউন্সিল আলোচনার পাশাপাশি ভিবিন্ন ইউনিয়ন আ.লীগের কাউন্সিল নিয়েও চলছে নানা আলোচনা-পর্যালোচনা। সর্বশেষ ২০১২ সালে উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হলে এসব কমিটির মেয়াধ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। ফলে উপজেলা আ.লীগের কমিটি হালনাগাদের পর হলে কাউন্সিলের মাধ্যমে ইউনিয়নগুলোর নতুন কমিটি গঠন করা হবে। আর নতুন করে ইউনিয়ন আ.লীগের কাউন্সিল ঘোষনা হলে উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়ন থেকেই সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা। তাই স্বাগতিক ইউনিয়ন হিসেবে করেহাট আ.লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী ও তৃনমূল নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যেই কাউন্সিলের জন্য আটঘাট বেধে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, করেরহাট আ.লীগের সভাপতি পদে সম্ভাব্যরা হলেন- বর্তমান সভাপতি সুলতান গিয়াস উদ্দিন জসিম, সাবেক সাধারন সম্পাদক আবু সাঈদ চৌধুরী ও প্রবীন রাজনীতিবিদ বেলাল কোম্পানী। অন্যদিকে, সম্পাদক পদে সম্ভাব্যরা- বর্তমান সাধারন সম্পাদক শেখ সেলিম ও করেরহাট বাজার পরিচালনা কমিটির সম্পাদক আ.লীগ নেতা কামরুল হোসেন। এ ছাড়া একই পদে উপজেলা আ.লীগ নেতা আবুল হোসেনের নাম শোনা গেলেও এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সভাপতি পদ নিয়ে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের খুব বেশি মাথা ব্যাথা না থাকলেও তৃনমূল নেতাকর্মীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু সম্পাদক প্রার্থী কামরুল হোসেন। মূলত: বর্তমান ইউনিয়ন আ.লীগে দায়িত্বরতদের (দলীয় কাউন্সিলর) সিংহভাগ নেতাকর্মী এবং ইউনিয়ন ছাত্রলীগ-যুবলীগ প্রায় শতভাগ নেতাকর্মীই করেরহাট আ.লীগে কামরুল হোসেনের নেতৃত্ব চায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি সুলতান গিয়াস উদ্দিন জসিম বলেন, গত দুই মেয়াধে সফলতার সাথে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার দায়িত্বকালে বর্তমানে করেরহাটকে আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলেছি। দল যেহেতু করছি আমার কাছে নেতাকর্মীদের চাওয়া-পাওয়ার মূল্যায়ন আছে। তাই ব্যক্তিগতভাবে কোন সিদ্ধান্ত নেইনি। এখনো সম্মেলনের কোন পূর্ভাবাস মেলেনি। সম্মেলনের সময় নির্ধারনের পর নেতাকর্মীরা এবং মিরসরাই আওয়ামীলীগের কান্ডারী ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেন যদি চায় তাহলে অবশ্যই প্রতিদ্ধন্ধীতা করবো হবো।

ইউনিয়ন কাউন্সিলের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আ.লীগের সদস্য আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আ.লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছি। দলের দূর্দিনে ২০০৬ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে করেরহাট ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। করেরহাট আ.লীগের তৃনমূল নেতাকর্মীদের উপযুক্ত মূল্যায়ন নিশ্চিত করে প্রিয় নেতা ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেনের মাঠ রাজনীতি আরো চাঙ্গা করতে নেতাকর্মীরা চায় আগামী কাউন্সিলে করেরহাট ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি পদে আমি প্রতিদ্ধদ্ধীতা করি; সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তবে সভাপতি পদে নেতাকর্মীদের মুখে বেলাল কোম্পানীর নাম শোনা গেলেও তিনি বলেন, নেতা-কর্মীরা চাইলেও ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেনের কাছ থেকে গ্রীন সিগনাল পেলে তারপর প্রার্থী সভাপতি পদে প্রতিদ্ধন্ধীতার কথা চিন্তা করবো; অন্যথায় নয়।

করেরহাট আ.লীগের সাধারন সম্পাদক শেখ সেলিম বলেন, আমি দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে দলের জন্য কাজ করেছি। কখনো পদ পদবীর জন্য উৎসুক ছিলামনা। সাধারন সম্পাদক হিসেবে যতদিন দায়িত্বে আছি দলকে সু-সংগঠিত রাখতে কাজ করবো। সম্মেলন ঘোষনার পর আমার নেতা ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেন চাইলে প্রতিদ্ধন্ধীতা করবো। অন্যথায় তার সিদ্ধান্ত মেনেই দলের জন্য কাজ করে যাবো।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিশ্চুক একাধিক নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান কমিটির মূল পদের গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বশীলরা সিন্ডিকেট রাজনীতির মাধ্যমে ব্যবসা-বানিজ্য নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রেখে অর্থ আয় ও ক্ষমতা প্রদর্শনে অধিক মনোযোগী। আর ওই সিন্ডিকেট নেতাদের কারনে দলের দূর্দিনের ত্যাগী-নির্যাতিত নেতা-কর্মীরা অবহেলিত ও মূল্যায়ন বঞ্চিত হয়ে ক্ষোভ-অভিমানে বর্তমানে রাজনৈতিক মাঠ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন। করেরহাট আ.লীগের সিন্ডিকেট রাজনীতির এই রাহুগ্রাস মুক্ত করে সুস্থ্য ধারার সম-অধিকারের রাজনীতি চর্চা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের উপযুক্ত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে নেতৃত্বের পরিবর্তন জরুরী বলে দাবি দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। আর এ ক্ষেত্রে কর্মী বান্ধব তরুন ও উদিয়মান রাজনীতিবিদ হিসেবে কামরুল হোসেনকে ইউনিয়ন আ.লীগের সম্পাদক পদে নেতৃত্বে আনতে আগ্রহী দলীয় দলীয় নেতাকর্মীরা।

যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিন আলো, সাইফুল ইসলাম, ইমাম হোসেন, সামসুদ্দীন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক শোভন বলেন, যিনি দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতি, যুব রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং যার তৃনমূল নেতাকর্মীদের সাথে সু-সম্পর্ক আছে এবং যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের উপযুক্ত মূল্যায়নের মাধ্যমে দলকে সু-সংগঠিত রাখতে পারবেন আমরা চাই এমন একজন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে আসুক। আর এ ক্ষেত্রে সাধারন সম্পাদক পদে কামরুল হোসেনকে আমারা তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যোগ্য ও উপযুক্ত মনে করি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুল হাসান জানান, মুক্তিযোদ্ধার রক্ত আমার শরীরে বহমান। পারিবারিকভাবে আমি আওয়ামী ঘরানার সন্তান। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দলের জন্য কাজ করে বারবার জেল-জুলুম নির্যাতন নিপিড়নের শিকার হয়েছি। মাঠ-পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দু:খ-কষ্ঠ আমি নিজেও উপলব্দি করতে পারি। তাই দীর্ঘদিন আমি ইউনিয়ন আ.লীগের দায়িত্বে না থেকেও দলের তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে করেরহাটে আমার নেতা ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেনের মাঠ রাজনীতির ভিত মজবুত রাখতে কাজ করে আসছি, ভবিষ্যতেও আমার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। দলের স্বার্থে নেতাকর্মীরা ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারন সম্পাদক পদে আমাকে চায়। আমার অভিবাবক ও প্রিয় নেতা ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেনের দিক-নির্দেশনা পেলে আমি করেরহাট আ.লীগের সাধারন সম্পাদক পদে প্রার্থী হবো।

উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক ও করেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন জানান, জেলা ও উপজেলা সম্মেলনের পর ইউনিয়ন আ.লীগের সম্মেলন হতে পারে। করেরহাট ইউনিয়ন আ.লীগের সম্ভ্যাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান সভাপতি, সম্পাদক ও কামরুল হোসেন সহ মোট তিন জনের নাম অনেক আগে থেকে শুনে আসছি। নতুন করে আরো কেউ প্রার্থী হবে কিনা এ বিষয়ে আমার জানা নেই। ইউনিয়ন কাউন্সিলের বিষয়ে এ মুহুর্তে আমার কোন মন্তব্য নেই। সম্মেলন ঘোষনা হলে ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেনের নির্দেশ মতো দলের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ্রকে সার্বিক সহযোগীতা করবো।

প্রসঙ্গত, উদিয়মান রাজনীতিবিদ কামরুল হোসেন মিরসরাই উপজেলা বিআরডিবির সাবেক ৪ বারের সফল চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তোবারক হোসেনের পুত্র। শিক্ষা জীবনে কামরুল মিঠানালা রাম দয়াল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে পরবর্তীতে মিরসরাই ডিগ্রী কলেজে থেকে এইচ এসসি এবং বারইয়ারহাট কলেজ থেকে ¯œাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ছাত্র রাজনীতির উত্তাল দিন গুলোতে ১৯৯৭ সালে বারইয়ারহাট কলেজ ছাত্রলীগের জিএস, ১৯৯৮ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০০৩ সালে একই কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যবসায়িক পরিমন্ডলে তিনি ফেনী উপত্যকা বহুমূখী কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সন্মানিত সদস্য ও রামগড়-করেরহাট ট্রাক মালিক সমিতির সদস্য হিসাবে ব্যবসায়ীদের পাশে থেকে অবদান রাখেন। সমাজকর্মে তিনি উদয়ন ক্লাবের যুগ্ন সম্পাদক হিসাবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া গত ২০১৫ সালে তীব্র প্রতিদ্ধন্ধীতার মুখেও করেরহাট বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে দুই মেয়াধে দায়িত্ব পালন করছেন।


লিডনিউজ | logo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    

সম্পাদক ও প্রকাশক:
ঠিকানা:
মুঠোফোন: ,ইমেইল:

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ঢাকা অফিস: ১৯২ ফকিরাপুল, (৩য় তলা),
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।

rss goolge-plus twitter facebook
DEVELOPMENT: