ছৈয়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদ পূনর্মিলনী  করেরহাট আ.লীগে কামরুলের নেতৃত্ব চায় তৃনমূল নেতা-কর্মীরা  মিরসরাই আওয়ামীলীগের কাউন্সিল : সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ  মিরসরাইয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির হামলায় বৃদ্ধা নিহত  ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে মিরসরাইয়ের তামান্না  মিরসরাইয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ড্রেন দখল চেষ্টার অভিযোগ  নামী দামি ব্রান্ডের ৫২ পণ্য বিক্রি বন্ধে আদালতের নির্দেশ  সমুদ্রের ৩৮ কি.মি গভীরে জিপির নেটওয়ার্ক মিললেও মেলে না ঘরে ভেতর  তিউনিসিয়ায় নৌকা ডুবে মৃত ৬০ জনের অধিকাংশ বাংলাদেশি  মিরসরাই আ’লীগের কাউন্সিল : আলোচনায় অর্ধ ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী


লিডনিউজ | logo

২৯শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

মিরসরাইয়ে মোশাররফের প্রচারনায় দাপুটে আওয়ামীলীগ : অন্ত:কোন্দলে ধরাশায়ী বিএনপি

মিরসরাইয়ে মোশাররফের প্রচারনায় দাপুটে আওয়ামীলীগ : অন্ত:কোন্দলে ধরাশায়ী বিএনপি

চট্টগ্রাম -১ (মিরসরাই) আসন
মো. রিগান উদ্দিন : সারা দেশের মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী জ্বরে দোলা লেগেছে চট্টগ্রামের স্বাগতিক মিরসরাই (চট্টগ্রাম-১) আসনের হাট-বাজারে; সাধারন মানুষের চায়ের কাপের আড্ডা-অলোচনায়। উপজেলার সর্বত্রই আমজনতার মুখে-মুখে শোভা পাচ্ছে নির্বাচনী আলোচনা-সমালোচনা। জাতীয় সংসদ প্রতিনিধি হিসেবে আগামীর নেতৃত্ব দিতে মীরসরাই থেকে কে যাবে সংসদে, কার মুখে ফুটবে জনগনের গণরায়ের ফলাফলে বিজয়ের শেষ হাসি; এ নিয়ে মানুষের মাঝে কৌতুহলের অন্ত নেই। দেশের বড় দুই দল আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থীদের পাশাপাশি সতন্ত্র ও ছোট দলগুলোর মনোনীত প্রার্থী সমর্থকরাও ব্যস্ত সময় পার করছে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায়। জনগনের দুয়ারে দুয়ারে ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি শেষ মুহুর্তে নেতাকর্মীদের মন জয় করে ভোট যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত তারা। নির্বাচনে প্রতিদ্ধন্ধীতার লক্ষ্যে উপজেলায় এবার মোট এগার প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান সাংসদ ও গৃহায়নমন্ত্রী ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেনকে এবারও সরকার দল আওয়ামীলীগ নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলেও বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের তিনজনই নতুন মুখ। বিএনপি’র কেন্দ্র থেকে বলা হচ্ছে দলের কৌশলগত কারনে মিরসরাইয়ে বিএনপি’র এ তিন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহন ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষনা করা হয়েছে সদ্য পদত্যাগকৃত উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিনকে। কিন্ত দীর্ঘদিনের অন্ত:কোন্দল নিরসনে ব্যার্থ হওয়ায় একাধিক নেতায় বিভক্ত বিএনপি বর্তমানে নির্বাচনী মাঠেও অগোচালো। বিএনপি’র কর্মী সমর্থকদের মতে, ‘ভুল’ নেতা নির্ধারন ও অন্ত:কোন্দলে জর্জরিত মিরসরাই বিএনপি’র প্রার্থী ভোটে থাকলেও দৃশ্যত মাঠে নগন্য উপস্থিতি বিএনপি’র প্রায় সকল নেতাকর্মীদেরই। নেতা নির্ধারনের এ জটিলতার রেষ বিরাজ করছে বিএনপি’র তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝেও। ফলে বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনে দলের অংশগ্রহনে আনন্দের দোলা লাগলেও কার্যত নেতৃত্ব বিপাকে তুষের আগুনের মতো জ্বলছে ভিন্ন ভিন্ন নেতা সমর্থিত (একাধিক নেতার কারনে গ্রুপ উপ-গ্রুপে ভিবক্ত) উপজেলা বিএনপির তৃনমূল পর্যায়ের কর্মী সমর্থকরা। ফলে, উপজেলাজুড়ে নৌকার মনোনীত প্রার্থীর প্রচার-প্রচারনায় পোস্টার, ব্যানার, পেস্টুন প্রভৃতি লক্ষ্য করা গেলেও চোখে পড়ছেনা ধানের শীষ প্রতীকের কোন প্রচারনা সামগ্রীর। প্রতীক বরাদ্ধ পাওয়ার পরও প্রকাশ্যে এখনো গনসংযোগ বা নির্বাচনী প্রচারনায় দেখা যায়নি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিনকে। মহাজোটের শরীক হওয়ায় উপজেলায় এবার প্রার্থী নেই বর্তমান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির।
তবে, বড় দুই দলের পাশাপাশি থেমে নেই ছোট দল মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচনী কার্যক্রম; মুখরোচক নানা নির্বাচনী শ্লোগানে জনগনের মনজয়ের চেষ্টায় সভা-সেমিনারের পাশাপাশি তারাও ব্যস্ত দুয়ারে দুয়ারে ভোট প্রার্থনায়। মিরসরাইয়ের নির্বাচনী মাঠ বিশ্লেষনের ভিবিন্ন দিক নিয়ে নিচে পড়–ন বিস্তারিত-
বৈধ ৭, বাতিল ৩, চূড়ান্ত ৬ : গত ২ ডিসেম্বর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাইয়ে ৭ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ও বিএনপির মনোনিত প্রার্থী নুরুল আমিনের মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। পরে গত ৮ ডিসেম্বর কমিশনে আপিলের মাধ্যমে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন নুরুল আমিন। প্রত্যাহার শেষে বর্তমানে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ৬ জন।
আরো যাদের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে তারা হলেন, আওয়ামীলীগের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, বিএনপির কামাল উদ্দিন আহাম্মেদ, মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, ইসালামিক ফ্রন্ট এর প্রার্থী আব্দুল মন্নান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মোঃ সামসুদ্দীন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, গণ ফেরামের প্রার্থী নুর উদ্দিন আহমেদ। মনোনয়ন স্থগিত হয়েছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিনের। প্রার্থীতা বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন বিএনপি নেতা শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম ও মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন।

আওয়ামীলীগ (নৌকা) : বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার কর্তৃক মিরসরাইয়ে বিগত দিনে বাস্তবায়ন হওয়া ও চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফিরিস্তিই হবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মূল প্রতিপাদ্য। দলের একক প্রার্থী ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেনের এসব উন্নয়ন ও সরকারের দেয়া ভিবিন্ন সুযোগ সুবিধার ফলাও প্রচারের মাধ্যমে নির্বাচনী যুদ্ধে নেমেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ। আওয়ামীলীগ নির্ধারিত হাইপ্রোপাইল প্রার্থী গৃহায়নমন্ত্রী ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেনের বিরামহীন প্রচার-প্রচারনায় নির্বাচনী মাঠে মিরসরাইয়ে ধরাশায়ী অবস্থায় বিএনপি। কনকনে শীতের কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত গন সংযোগের পাশাপাশি নেতাকর্মীদের ভিবিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়ে মাঠে পাকাপোক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। নিজের নির্বাচনী প্রচারনায় প্রতিদিন গনসংযোগ, ইশতেহার সম্বলিত নৌকার লিপলেট বিতরন, দলীয় কেন্দ্র কমিটির মিটিং, উঠান বৈঠক, পাড়া বৈঠক, জনসভা, তৃনমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে দলের বর্ধিত সভা সহ সহ নানামুখি নির্বাচনী প্রচারনায় নেতাকর্মীদের উজ্জিবিত রাখছেন নৌকার মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জি. মোশাররফ। নির্বাচনী এসব কার্যক্রমে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারন মানুষের স্বতস্পূর্ত অংশগ্রহন চোখে পড়ার মতো।

স্থানীয়দের মতে, ৭০ এর নির্বাচন থেকে এ পর্যন্ত সকল জাতীয় নির্বাচনে মিরসরাই আসনে নৌকার মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেন একাধিক নির্বাচনে অংশগ্রহন করলেও এবারের মতো এত পরিশ্রম করতে আতীতে কখনো দেখা যায়নি তাকে। গত একমাস ফজরের নামাজ পড়ে নির্বাচনী ক্যম্পইনে এলাকায় বেরিয়ে পড়ছেন তিনি। দুপুরে ভাত না খেয়ে সারাদিন টানা চালাচ্ছেন গনসংযোগ সহ নির্বাচনী প্রচারনা, বাড়ি ফিরেন মধ্যরাতে।

অপরদিকে, পূর্তমন্ত্রীর পাশাপাশি এবার নির্বাচনী প্রচারনায় মাঠে নেমেছেন তার সহধর্মীনি আয়েশা সুলতানা মোশাররফ, মেঝ ছেলে স্টার সিনেপ্লেক্স এমডি আইটি বিশেষজ্ঞ মাহবুব রহমান রুহেল, বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সমু, পুত্রবধু তাহমিনা রহমান সহ তার পরিবারের অর্ধডজন সদস্যরাও। নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখার অহবান জানিয়ে দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে নানামুখী নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহন করছেন তারা।

সপ্তম বারের মতো নৌকার প্রার্থী মোশাররফ : সপ্তমবারের মতো নৌকার প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৭০ সালে সর্বপ্রথম তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮ সালে এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
আরো যারা আওয়ামীলীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন : পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেন ছাড়াও আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান, উত্তরজেলা আওয়ামীলীগের প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মন্ত্রীপুত্র মাহবুব রহমান রুহেল, উত্তরজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মহিউদ্দিন রাশেদ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা স্বপন চৌধুরী, আন্তজার্তিক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিট সহ মোট ৯ জন। তবে মনোনয়ন না পেলেও দলের মনোনীত প্রার্থী হেভিওয়েট প্রার্থী ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেনের পক্ষে কাজ করবেন এমনটি জানিয়েছেন মনোনয়ন বঞ্চিত গিয়াস উদ্দিন, এলিট সহ বাকি সকল মনোনয়ন প্রত্যাশীরাই।

বিএনপি (ধানের শীষ) : প্রফেসর কামাল উদ্দিন নির্বাচনে না আসায় এবার পাল্টে গেছে মিরসরাই বিএনপি’র নির্বাচনী সমীকরন। মোট ২০ প্রার্থী বিএনপি’র মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও আশাহত হয়েছেন ১৭ জনই। বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত তিন প্রার্থীরা হলেন- মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ইউছুপ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান (সদ্য পদত্যাগকৃত) নুরুল আমিন ও ব্যবসায়ী নেতা কামাল উদ্দিন আহম্মেদ। প্রফেসর কামাল উদ্দিনের অবর্তমানে মিরসরাই বিএনপির প্রার্থী অলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও দলটির ত্যাগী নেতা নুরুল আমিনও ভাগ্য বিড়ম্বনার শিকার হয়ে জোটেনি দলীয় মনোনয়ন। সভাপতি আমিনের জায়গায় দলীয় মনোনয়নের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তারই এক সময়কার রাজনৈতিক শীর্ষ চেয়ারম্যান নুরুল আমিন। এটি নিয়েও দলের মাঠ পর্যায়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বঞ্চিত থেকে গেছেন দলের জন্য কারাবরন করা অপর বিএনপি নেতা শাহিদুল ইসলাম চৌধুরী। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য থেকে এতদিন দৌঁড়ঝাপ দেয়া পারভেজ সাজ্জাদও মন গলাতে পারেননি বিএনপির নীতি নির্ধারক পর্যায়ের মনোনয়ন নির্ধারকদের। এদিকে, মনোনয়ন ইন্স্যুতে সাবেক সাংসদ ও বিএনপি’র দলছুট নেতা এমএ জিন্নার নাম তুমুল আলোচনায় থাকলেও শেষতক তার ফলাফলও শূন্য। ফলে মনোনয়ন পাওয়ার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তিনিও। এদিকে, চূড়ান্ত বাচাইয়ে চেয়ারম্যান নুরুল আমিনকে বিএনপি’র মনোনয়ন না দিতে লন্ডনে তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে উপজেলা বিএনপি’র নীতি নির্ধারক মহলের ভিবিন্ন নেতারা। আরো যারা বিএনপি’র মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন- এছাড়া কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এফসিএ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক মাহবুবের রহমান শামীম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, মেজর (অব.) মোস্তফা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম লতিফী, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সভাপতি সরওয়ার উদ্দিন সেলিম, ড. এম এম এমরান চৌধুরী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ফখরুল ইসলাম, এডভোকেট খায়রুল ইসলাম বেলাল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক গাজী নিজাম উদ্দিন, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী, ঢাকাস্থ মিরসরাই জাতীয়তাবাদী ফোরামের সভাপতি আকম জান্নাতুল করিম খোকন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম তৌহিদ।
উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের পদত্যাগ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে নির্বাচন করার লক্ষ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (সাময়িক বরখাস্তকৃত) ও মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন। ২৮ নভেম্বর তিনি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ইলিয়াছ হোসেনের হাতে পদত্যাগপত্রটি তুলে দেন।

জাতীয় নির্বাচনে মিরসরাইয়ের অতীত পরিসংখ্যান : ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এক লাখ পাঁচ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির অধ্যাপক এম ডি এম কামাল উদ্দিন চৌধুরী। তিনি পেয়েছিলেন ৯৪ হাজার ৬৬৫ ভোট। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে এ আসনে ফের লড়াই হবে দুই দলের মধ্যেই। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোটের ব্যবধান খুব অল্প। ১৯৯০ সালে এ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হন এম এ জিন্নাহ্। ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রামের এ আসন থেকে জয়ী হন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেন বিএনপি প্রার্থী এম এ জিন্নাহ্। এসব নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজারের মধ্যে।
নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী গৃহায়নমন্ত্রী ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেন বলেন, মিরসরাইয়ে নির্বাচনে আওয়ামীলীগের উন্নয়ন জোয়ারে বিএনপি সহ অন্য প্রার্থীরা ভেসে যাবে। সাধারন মানুষ অতীতের মতো এবারও আগামী ৩০ ডিসেম্বর নৌকায় ভোট দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবাদ সুষ্ঠু নির্বাচনে মিরসরাইয়ে নৌকার জয়ের বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন বলেন, বিএনপি গনমানুষের দল। মামলা-হামলা দিয়ে আমার নেতাকর্মীদের হয়রানির মাধ্যমে আমার নির্বাচনী কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ্য করা হচ্ছে। ফলে আমার নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহন করতে পারছেনা। তদুপরি, বর্তমান ফ্যাসীবাদী সরকারের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে জনগন আমাকে ধানের শীষে ভোট দিবে। নির্বাচন অবাদ-সুষ্ঠ হলে জনগন আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে, ইনশাআল্লাহ।


লিডনিউজ | logo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    

সম্পাদক ও প্রকাশক:
ঠিকানা:
মুঠোফোন: ,ইমেইল:

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ঢাকা অফিস: ১৯২ ফকিরাপুল, (৩য় তলা),
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।

rss goolge-plus twitter facebook
DEVELOPMENT: