ছৈয়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদ পূনর্মিলনী  করেরহাট আ.লীগে কামরুলের নেতৃত্ব চায় তৃনমূল নেতা-কর্মীরা  মিরসরাই আওয়ামীলীগের কাউন্সিল : সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ  মিরসরাইয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির হামলায় বৃদ্ধা নিহত  ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে মিরসরাইয়ের তামান্না  মিরসরাইয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ড্রেন দখল চেষ্টার অভিযোগ  নামী দামি ব্রান্ডের ৫২ পণ্য বিক্রি বন্ধে আদালতের নির্দেশ  সমুদ্রের ৩৮ কি.মি গভীরে জিপির নেটওয়ার্ক মিললেও মেলে না ঘরে ভেতর  তিউনিসিয়ায় নৌকা ডুবে মৃত ৬০ জনের অধিকাংশ বাংলাদেশি  মিরসরাই আ’লীগের কাউন্সিল : আলোচনায় অর্ধ ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী


লিডনিউজ | logo

২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

পর্যটক আকর্ষনে কাপ্তাই লেক ও বিলাইছড়ি

পর্যটক আকর্ষনে কাপ্তাই লেক ও বিলাইছড়ি

সাইফ মাহমুদ : অনেক দিন থেকে ইচ্ছে ছিল ধূপপানি আর মুপ্পাছড়া ঝর্ণা ঘুরতে যাবো। এই ইদেই তাই ট্যুর প্ল্যান করে ফেললাম। আমরা মোট ১২ জন যাবো। আমরা চার জন নোয়াখালী থেকে, বাকী ৮ জন এসেছে ঢাকা থেকে। এই দিকে আবার ইদের দিন বৃষ্টি হওয়াতে ভাবলাম ট্রেকিং করা মনে হয় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। যাই হোক সব ভাবনা চিন্তা ঝেড়ে ফেলে ইদের পরের দিন কাপ্তাইয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। সবাই একসাথে হলাম কাপ্তাই নতুন বাজার এলাকায়। এখানে আমাদের বোটের মাঝি জ্যোতিদা আমাদের অপেক্ষায় ছিলেন। ওনার সাথে আগেই কথা বলা ছিল ২ দিনের জন্য পুরো বোট রিজার্ভ করা ছিল ৫৫০০ টাকায়। নতুন বাজার থেকে আর্মি ক্যাম্পে গেলাম আমরা। ওখানে বোট বাঁধা ছিল। মূলত ওখান থেকে আমাদের কাপ্তাই ভ্রমন শুরু। বোট ছেড়ে দিলো বিলাইছড়ির উদ্দেশ্যে। পথে আর্মি ক্যাম্পে সবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিয়ে ট্যুর অনুমতি নেওয়া হল। দেড় ঘন্টার মধ্যে আমরা বিলাইছড়ি পৌঁছালাম। আগেই জানতাম ইদের কারনে অনেক ভিড় হবে, হল ও তাই। আমাদের থাকার ব্যাবস্থা করা হল স্থানীয় একজনের বাড়ীতে। ২০০০ টাকায় ২ দিন। বিলাইছড়ি হচ্ছে পাহাড়ী একটা থানা। হাল্কা নাস্তা করে আমরা মুপ্পাছড়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। কাপ্তাই লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে আমরা মুপ্পাছড়ার ট্রেইলে পৌঁছে গেলাম। এবার শুরু হল হাঁটা পথ। মনে রাখবেন মুপ্পাছড়া হচ্ছে ধূপপানি যাওয়ার আগের ট্রেনিং । উঁচু নিচু পাহাড়ি টিলা বেয়ে আমরা মুপ্পাছড়ার দিকে যেতে থাকি। যাত্রা পথের ঝিরি গুলো খানিকের জন্য ক্লান্তি দূর করে দেয়। মনে রাখবেন এখানে দুইটা ঝর্ণা পাবেন, একদম উপরের দিকেরটা মুপ্পাছড়া, আর নিচের দিকেরটা নকাটা ঝর্ণা। যাত্রা পথে একটা তিন মুখী রাস্তা পড়বে। ওটা থেকে ৩০ মিনিট ট্রেকিং করে উপরে গেলে মুপ্পাছড়া, আর নিচের দিকে গেলে নকাটা পড়বে। আমরা দুইটা ঝর্ণা কাভার করে আসছি। একটা বিষয় লক্ষ্য রাখবেন, বিভিন্ন গাছে হাত দিতে সাবধানে দিবেন। আমার এক বন্ধু ভুলে বিছার উপর হাত দিয়ে বিপদে পড়েছিল। যাই হোক মুপ্পাছড়া শেষ করে আমরা আবার বিলাইছড়ি ফিরে আসি। সন্ধ্যায় নাস্তা করে আবার বোটে করে বেরিয়ে পড়ি রাতের বেলায় হালকা চাঁদের আলোয় লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। ৯ টার মধ্যে আবার ফেরত আসি এবং খাওয়া দাওয়া শেষ করে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেই।

পরের দিন হচ্ছে কঠিন পরীক্ষার দিন ‘মিশন ধূপপানি’। একদম ভোরে আমরা রওয়ানা দেই। এখানকার আর্মির সদর দপ্তরে সবার পরিচয় পত্রের ফটোকপি জমা দেওয়া লাগে। যাদের থাকে না, তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখানে অবশ্যই পরিচয়পত্র লাগবে। এখান থেকে রওয়ানা হয়ে ২ ঘন্টার মধ্যে আমরা ধূপপানির ট্রেইলে পৌঁছাই, পথে আরও একটা আর্মি চেকপোস্ট পড়ে। ধূপপানি ট্রেইলে বোটে করে পৌঁছানোর পরে ডিঙি নেওয়া লাগে। ৩০০ টাকা রিজার্ভ। ৫ জন বসতে পারে। ডিঙিতে করে যাওয়ার পর অনেক দূর সমতল দিয়ে হাঁটতে হয়। এরপর শুরু খাড়া পাহাড় টপকানো। আপনার ধৈর্যশক্তির প্রথম পরীক্ষা হয়ে যাবে এই পাহাড় টপকাতে। এখানে থেমে থাকলে হবে না, এই রকম আর ও দুইটা পাহাড় টপকাতে হবে। যাত্রা পথের সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দিবে পাহাড়ের অনাবিল সৌন্দর্য। তবে এই পথে ঝিরি পথ অনেক কম। পাথুরে পাহাড়ী রাস্তা বেশী। পর্যাপ্ত পানির ব্যাবস্থা করে যাবেন। ধূপপানি পৌঁছার একটা পাহাড় আগেই একটা পাহাড়ী দোকান পাবেন। এখানে কিছুক্ষন জিরিয়ে আবার চলা শুরু। এবার একদম খাড়া পাহাড় বেয়ে নিচে নামতে হবে। পায়ের ব্যাল্যান্স এর এদিক ওদিক হলে একদম খাদে পড়তে হবে। খুবই সাবধানে এই পথ পাড়ি দিতে হবে। এরপর পাথুরে বোল্ডারের ভেতর দিয়ে যখন ঝর্ণা দেখা যায় নিমিষে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। ঝর্ণার শীতল পানিতে গোসল করে আমরা আবার বোটে ফেরত আসি। মোটামুটি ৩ ঘন্টায় আমরা ট্রেকিং শেষ করি। রোদ থাকায় ট্রেকিং করা তুলনামূলক সহজ হয়েছে আমাদের জন্য। এরপর বিলাইছড়ি থেকে খাওয়া দাওয়া শেষ করে একেবারেই রওয়ানা দিলাম উদ্দ্যেশ্যে পথে মধ্যে কাপ্তাই বাঁধ দেখা। বোনাস হিসেবে লেকের মধ্যে বৃষ্টি ও উপভোগ করলাম। সন্ধ্যার মধ্যে আমরা কাপ্তাই পৌঁছে গেলাম।
বোটের মাঝি জ্যোতিদা খুবই অমায়িক এবং মিশুক একজন লোক। সব কিছু একাই ম্যানেজ করে দেন। ঘুরতে গেলে সবাই অবশ্যই লেকের পরিবেশের কথা মাথায় রাখবেন। লেক এবং ঝর্ণায় ময়লা ফেলবেন না। বোটে জমা করে রাখবেন এবং ঘাটে নামার পর নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলবেন। 
হ্যাপি ট্রাভেলিং – জ্যোতিদা : 01554537377


লিডনিউজ | logo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    

সম্পাদক ও প্রকাশক:
ঠিকানা:
মুঠোফোন: ,ইমেইল:

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ঢাকা অফিস: ১৯২ ফকিরাপুল, (৩য় তলা),
মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।

rss goolge-plus twitter facebook
DEVELOPMENT: