রোহিঙ্গা ইন্স্যু ও আত্ম-উপলদ্ধি-সালাউদ্দিন স্বপন

লিডনিউজটুয়েন্টিফোর.কম,

সালাউদ্দিন স্বপন (অতিথি লেখক) :: কয়েকদিন যাবৎ রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিউজফিডে আসা প্রায় সবার লেখাই খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ছি। এই সব লেখায় মোটামুটি দুই ধরণের প্যাটার্ন পেয়েছি।

একপক্ষ, রোহিঙ্গারা মুসলমান, সেই বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেওয়া, আশ্রয় দেওয়া, এমনকি প্রয়োজনে মায়ানমারের সাথে যুদ্ধে যাওয়ার-ও আহ্বান জানাচ্ছে অথচ এরাই আবার নিজ দেশে অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপর নির্যাতনের ব্যাপারে চুপ থাকে কিংবা মৌন সমর্থন যোগায়, এরাই একাত্তরের গনহত্যার ব্যাপারে চুপ, এরাই একাত্তরে গনহত্যা, ধর্ষণ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলে, এরাই ক্ষমতার পরিবর্তনে পূর্ণিমার মতো কিশোরীরা যখন ধর্ষিত হয় ক্ষমতাসীন দলের জিহাদি গুন্ডাদের দ্বারা তখন চুপ থাকে।

আরেকপক্ষ আছে যারা সবসময় মানবতার কথা বলে, বিশ্বের কোথাও যদি কোনো সন্ত্রাসী হামলা হয়, তখন তার ধর্মীয় পরিচয় যদি ইসলাম হয় তখন আহতদের প্রতি সমবেদনার চেয়ে মুসলমানদের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধারে তারা নেমে যায় অথচ রোহীঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর নির্যাতনে তারা চুপ বরং কেউ আগ বাড়িয়ে নির্যাতিতরা যে নির্যাতিত না এবং কিছু জঙ্গির দায় পুরো নির্যাতিত গোষ্ঠীর উপর চাপিয়ে দিয়ে টু সাম এক্সটেন্ট এই অমানবিক নির্যাতনকেই লেজিটিমেইট করছেন।

এই দু-পক্ষই মানবতার জন্য হুমকি। এরা কেবল মানুষের ধর্ম বিশ্বাস দেখে। এরা কেউই দেখেনা মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে। মানুষের বড় পরিচয় এদের কাছে মানুষ না, মানুষের ধর্ম এদের কাছে বড় পরিচয়।

এরা জানেনা, ভূমধ্যসাগরের তীরে ভেসে উঠা, মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা মৃত শিশু আয়নাল কিংবা নাফ নদীতে ভেসে উঠা নাম না জানা মৃত শিশুটি জানেনা সে আস্তিক না নাস্তিক, মুসলিম না অন্যধর্ম্বালম্বী, স্রষ্টা আছেন কি নেই, একাত্তরের ধর্ষিত নারীদের চোখের জলের কোনো ধর্ম ছিলো না, ধর্ম ছিলো না হিটলারের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া হাজারো শিশুর, ধর্ষিত পূর্ণিমার এবং তাঁর মায়ের চোখের জলের কোনো ধর্ম ছিলো না।

পৃথিবীর নির্যাতিত কোনো শিশু, ধর্ষিত নারীর আর্ত-চিৎকারে, শোষিত-নির্যাতিত নিরীহ মানুষের রক্তে কোথাও লেখা থাকে না সে আস্তিক কিংবা নাস্তিক, লেখা থাকে না কি হিন্দু, কি বৌদ্ধ, কি খ্রিস্টান, কি মুসলিম, কি ইহুদি। এই নির্যাতিত মানুষের সবার রক্ত লাল, চোখের জল নোনা, ক্ষুধার যন্ত্রণা তীব্র। নির্যাতিত মানুষের ধর্ম একটাই, তাঁদের অসহায়ত্ব।

‘মানুষ তুমি মানুষ হও আগে, আস্তিক, নাস্তিক, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদি, মুসলমান হইয়ো পরে। আগে মানুষের জন্য কাঁদতে শেখো…।

প্রিয় পাঠক,

লিডনিউজটুয়েন্টিফোর.কম এর মুক্তমত ভিবাগে লিখতে পারেন আপনিও। যে কোন বিষয় ভিত্তিক আপনার সেরা লিখাটি পাঠাতে পারেন আমাদের ইমেইল-এ। মতামত পাঠাতে ই-মেইল করুন : editor.lidnews24@gmail.com অথবা lidnews24@gmail.com ঠিকানায়।

You May Also Like